আন্তর্জাতিক সীমারেখা
Subtopic: আন্তর্জাতিক সীমারেখা under World Basics
আন্তর্জাতিক সীমারেখা
আন্তর্জাতিক সীমারেখা বলতে একাধিক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে ভূখণ্ডগত বিভাজন নির্দেশক রেখাকে বোঝায়। এই সীমারেখা প্রাকৃতিক (নদী, পর্বত, সমুদ্র) বা কৃত্রিম (মানবসৃষ্ট সীমানা চিহ্ন) হতে পারে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এর সীমারেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে আন্তর্জাতিক সীমারেখার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যার সীমান্ত রয়েছে দুটি দেশের সাথে:
- ভারত: পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিকে।
- মিয়ানমার: দক্ষিণ-পূর্ব দিকে।
এছাড়াও, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সাথে বাংলাদেশের বিস্তৃত সমুদ্রসীমা রয়েছে।
| সীমান্তের ধরন | দৈর্ঘ্য (কিলোমিটার) | সংলগ্ন দেশ/অঞ্চল |
|---|---|---|
| স্থল সীমান্ত | ৪,১৫৬ | ভারত ও মিয়ানমার |
| ভারতের সাথে স্থল সীমান্ত | ৪,০৯৬ | ভারত (পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম) |
| মিয়ানমারের সাথে স্থল সীমান্ত | ২৭১ | মিয়ানমার (রাখাইন রাজ্য) |
| সমুদ্রসীমা | ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিলোমিটার | বঙ্গোপসাগর |
২. বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা ও কৌণিক শীর্ষ
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো আন্তর্জাতিক সীমারেখার সাথে সরাসরি সংযুক্ত। এছাড়াও, দেশের চারটি কৌণিক শীর্ষ রয়েছে, যা ভূখণ্ডের প্রান্তিক অবস্থান নির্দেশ করে।
ক. সীমান্তবর্তী জেলা
বাংলাদেশের মোট ৩২টি জেলা ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী। এর মধ্যে:
- ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি (কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি)।
খ. কৌণিক শীর্ষ
বাংলাদেশের চারটি কৌণিক শীর্ষ নিম্নরূপ:
| কৌণিক শীর্ষ | উপজেলা ও জেলা | সংলগ্ন দেশ/অঞ্চল |
|---|---|---|
| উত্তর-পশ্চিম কোণ | তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় | ভারত (পশ্চিমবঙ্গ) |
| উত্তর-পূর্ব কোণ | জকিগঞ্জ, সিলেট | ভারত (আসাম ও মেঘালয়) |
| দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ | শ্যামনগর, সাতক্ষীরা | ভারত (পশ্চিমবঙ্গ) ও বঙ্গোপসাগর |
| দক্ষিণ-পূর্ব কোণ | টেকনাফ, কক্সবাজার | মিয়ানমার ও বঙ্গোপসাগর |
৩. বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা বিরোধ
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী তিনটি ভাগে বিভক্ত:
| সমুদ্রসীমার ধরন | দৈর্ঘ্য (নটিক্যাল মাইল) | দৈর্ঘ্য (কিলোমিটার) | বর্ণনা |
|---|---|---|---|
| রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা (Territorial Sea) | ১২ নটিক্যাল মাইল | ২২.২২ কিলোমিটার | রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকারাধীন এলাকা। |
| অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা (Exclusive Economic Zone - EEZ) | ২০০ নটিক্যাল মাইল | ৩৭০.৪০ কিলোমিটার | মৎস্য ও খনিজ সম্পদ আহরণের একচ্ছত্র অধিকার। |
| মহাসোপান (Continental Shelf) | ৩৫০ নটিক্যাল মাইল | ৬৪৮.২০ কিলোমিটার | সমুদ্রতলের প্রাকৃতিক সম্প্রসারণ। |
ক. সমুদ্রসীমা বিরোধ ও নিষ্পত্তি
বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০১২ ও ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা ট্রাইব্যুনাল (ITLOS) ও স্থায়ী সালিশি আদালত (PCA)-এর মাধ্যমে এই বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।
- ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি: ২০১৪ সালের ৭ জুলাই, স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রায় ১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা লাভ করে।
- মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি: ২০১২ সালের ১৪ মার্চ, ITLOS-এর রায় অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রায় ১,১১,০০০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা লাভ করে।
৪. বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ও ছিটমহল সমস্যা
ক. সীমানা কমিশন ও র্যাডক্লিফ লাইন
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত বিভক্তির সময় স্যার সিরিল র্যাডক্লিফের নেতৃত্বে গঠিত র্যাডক্লিফ কমিশন বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ও ভারতের সীমানা নির্ধারণ করে। এই সীমানা র্যাডক্লিফ লাইন নামে পরিচিত।
খ. ছিটমহল সমস্যা ও সমাধান
ছিটমহল বলতে এমন ভূখণ্ডকে বোঝায়, যা একটি রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নভাবে অন্য একটি রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ছিটমহল সমস্যা বিদ্যমান ছিল।
- ছিটমহল বিনিময় চুক্তি: ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহল বিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়। তবে এটি কার্যকর হয় ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই।
- ছিটমহলের সংখ্যা ও আয়তন:
- ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ছিটমহল: ৫১টি (আয়তন: ৭,১১০ একর)।
- বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ছিটমহল: ১১১টি (আয়তন: ১৭,১৬০.৭৫ একর)।
- মোট ছিটমহল: ১৬২টি (আয়তন: ২৪,২৭০.৭৫ একর)।
| দেশ | ছিটমহলের সংখ্যা | আয়তন (একর) | সংলগ্ন জেলা |
|---|---|---|---|
| বাংলাদেশ | ৫১ | ৭,১১০ | লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী |
| ভারত | ১১১ | ১৭,১৬০.৭৫ | কোচবিহার (পশ্চিমবঙ্গ) |
- বৃহত্তম ছিটমহল: দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা (লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত)।
- প্রবেশপথ: দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাওয়ার জন্য তিনবিঘা করিডোর ব্যবহৃত হয়।
৫. বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে মিয়ানমারের সাথে ২৭১ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তে নিম্নলিখিত জেলাগুলো অবস্থিত:
- কক্সবাজার
- বান্দরবান
- রাঙামাটি
ক. গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত নদী
- নাফ নদী: বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রাকৃতিক সীমানা হিসেবে কাজ করে। নাফ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬২ কিলোমিটার।
- সাঙ্গু নদী: বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী নদী।
খ. রোহিঙ্গা সংকট ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
৬. বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নদীসমূহ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেশ কিছু নদী প্রাকৃতিক সীমানা হিসেবে কাজ করে। নিম্নে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নদীর বিবরণ দেওয়া হলো:
| নদীর নাম | দৈর্ঘ্য (কিলোমিটার) | প্রস্থ (মিটার) | সীমান্তবর্তী দেশ | বাংলাদেশের জেলা |
|---|---|---|---|---|
| হাড়িয়াভাঙ্গা | ১৬০ | ১,৫০০ | ভারত | সাতক্ষীরা |
| জুরি (জুড়ী) | ৭৩ | ৫৩ | ভারত | মৌলভীবাজার |
| নাফ | ৬২ | ১,৫০০-৩,০০০ | মিয়ানমার | কক্সবাজার |
| সাঙ্গু | ২৭০ | ১০০-২০০ | মিয়ানমার | বান্দরবান |
| ফেনী | ১১৬ | ১০০-৩০০ | ভারত | ফেনী, খাগড়াছড়ি |
৭. বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ
ক. সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড
- অবস্থান: বঙ্গোপসাগরের গভীরতম অংশ, সুন্দরবনের দক্ষিণে।
- বৈশিষ্ট্য: এটি একটি সাবমেরিন ক্যানিয়ন বা সমুদ্রতলের গভীর খাদ।
- গভীরতা: প্রায় ১,২০০ মিটার।
খ. সেন্টমার্টিন দ্বীপ
- অবস্থান: কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণে।
- বৈশিষ্ট্য: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
- আয়তন: প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার।
গ. দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ
- অবস্থান: সাতক্ষীরা জেলার হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায়।
- বিতর্ক: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই দ্বীপের মালিকানা নিয়ে বিতর্ক ছিল। ২০১৪ সালের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর এটি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।
৮. আন্তর্জাতিক সীমারেখা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা
| চুক্তির নাম | তারিখ | পক্ষগণ | বিষয়বস্তু |
|---|---|---|---|
| মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি | ১৬ মে, ১৯৭৪ | বাংলাদেশ ও ভারত | ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত নির্ধারণ। |
| গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি | ১২ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ | বাংলাদেশ ও ভারত | গঙ্গার পানি বণ্টন। |
| সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি চুক্তি | ৭ জুলাই, ২০১৪ | বাংলাদেশ ও ভারত | বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ। |
| সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি রায় | ১৪ মার্চ, ২০১২ | বাংলাদেশ ও মিয়ানমার | বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ। |
৯. বিগত বছরের প্রশ্নোত্তর (BCS ও অন্যান্য)
নিম্নে আন্তর্জাতিক সীমারেখা সংশ্লিষ্ট বিগত বছরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো:
| প্রশ্ন | উত্তর | পরীক্ষা |
|---|---|---|
| বাংলাদেশের কোথায় প্রাইস্টোসিন কালের সোপান দেখা যায়? | কুমিল্লা ও বরেন্দ্র অঞ্চল | ৪৩তম বিসিএস (২০২১) |
| নিম্নের কোন দেশটির সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে? | মিয়ানমার | ৪৩তম বিসিএস (২০২১) |
| 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' কী? | সাবমেরিন ক্যানিয়ন | ৪৩তম বিসিএস (২০২১) |
| বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কোনটি অবস্থিত? | সেন্টমার্টিন দ্বীপ | ৪১তম বিসিএস (২০২১) |
| বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য কয়টি? | ৫টি | ৪১তম বিসিএস (২০২১) |
| 'বেঙ্গল ফ্যান'- ভূমিরূপটি কোথায় অবস্থিত? | বঙ্গোপসাগরে | ৪১তম বিসিএস (২০২১) |
| মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ক'টি জেলার সীমান্ত রয়েছে? | ৩টি | ৩৮তম বিসিএস |
| প্রাইস্টোসিন চত্বর কোথায়? | মধুপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চল | ৩৮তম বিসিএস |
| বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ কোন সংস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়? | ITLOS (International Tribunal for the Law of the Sea) | ৩৮তম বিসিএস |
| মুছরীর চর কোন জেলায় অবস্থিত? | ফেনী | বিসিএস |
| 'দুবলার চর' কোথায় অবস্থিত? | সুন্দরবনের দক্ষিণ উপকূলে | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় |
১০. সারসংক্ষেপ
- বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত ভারত ও মিয়ানমারের সাথে এবং সমুদ্রসীমা বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- র্যাডক্লিফ কমিশন ১৯৪৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমানা নির্ধারণ করে।
- ছিটমহল সমস্যা ২০১৫ সালে সমাধান হয়।
- সমুদ্রসীমা বিরোধ ITLOS ও PCA-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়।
- সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরের গভীরতম অংশ।
এই অধ্যায়টি সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিসিএস, ব্যাংক জব, প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন প্রায়ই আসে। তাই এই বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা আবশ্যক।
ARCADEInteractive Learning Zone
MCQPractice Questions (15)
1.বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমার দৈর্ঘ্য কত নটিক্যাল মাইল?
- A.১৫০ নটিক্যাল মাইল
- B.২০০ নটিক্যাল মাইল
- C.২৫০ নটিক্যাল মাইল
- D.৩০০ নটিক্যাল মাইল
Correct Answer & Explanation
২০০ নটিক্যাল মাইল. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত, যা দেশের সমুদ্র সম্পদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
2.বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিটমহল বিনিময় চুক্তি কবে কার্যকর হয়?
- A.১৯৭৪ সালের ১৬ মে
- B.২০১৫ সালের ৩১ জুলাই
- C.২০১০ সালের ১ জানুয়ারি
- D.২০০১ সালের ১০ ডিসেম্বর
Correct Answer & Explanation
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই. বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ছিটমহল বিনিময় চুক্তি ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে কার্যকর হয়, যা দীর্ঘ ৬৮ বছরের ছিটমহল সমস্যার সমাধান করে।
3.বাংলাদেশের বৃহত্তম ছিটমহল কোনটি ছিল?
- A.দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা
- B.পাথরঘাটা
- C.গারাতি
- D.কুলাঘাট
Correct Answer & Explanation
দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা. দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিল বাংলাদেশের বৃহত্তম ছিটমহল, যা লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত এবং ভারতের অভ্যন্তরে ছিল। এটি ২০১৫ সালে ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়।
4.বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ কোন সংস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়?
- A.Permanent Court of Justice
- B.International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS)
- C.International Court of Justice (ICJ)
- D.United Nations Security Council
Correct Answer & Explanation
International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS). বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয় International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) এর মাধ্যমে, যা ২০১২ সালে রায় প্রদান করে।
5.মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ক'টি জেলার সীমান্ত রয়েছে?
- A.২টি
- B.৩টি
- C.৪টি
- D.৫টি
Correct Answer & Explanation
৩টি. বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে তিনটি জেলায়: রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার।
6.বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য কয়টি?
- A.৩টি
- B.৪টি
- C.৫টি
- D.৬টি
Correct Answer & Explanation
৫টি. বাংলাদেশের সাথে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সীমান্ত রয়েছে, যথা: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম।
7.বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কোনটি অবস্থিত?
- A.দক্ষিণ তালপটি
- B.সেন্টমার্টিন
- C.নিঝুম দ্বীপ
- D.ভোলা
Correct Answer & Explanation
সেন্টমার্টিন. সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত এবং দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ হিসেবে পরিচিত।
8.নিম্নের কোন দেশটির সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমানা রয়েছে?
- A.চীন
- B.পাকিস্তান
- C.থাইল্যান্ড
- D.মিয়ানমার
Correct Answer & Explanation
মিয়ানমার. বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের স্থল ও সমুদ্রসীমা রয়েছে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত এবং দুটি দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধও ছিল, যা আন্তর্জাতিক আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে।
9.বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা কত নটিক্যাল মাইল?
- A.১২ নটিক্যাল মাইল
- B.১০০ নটিক্যাল মাইল
- C.২০০ নটিক্যাল মাইল
- D.৩৫০ নটিক্যাল মাইল
Correct Answer & Explanation
২০০ নটিক্যাল মাইল. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার, যা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে।
10.বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম কোণের থানা কোনটি?
- A.জকিগঞ্জ, সিলেট
- B.তেতুলিয়া, পঞ্চগড়
- C.শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
- D.টেকনাফ, কক্সবাজার
Correct Answer & Explanation
তেতুলিয়া, পঞ্চগড়. বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম কোণের থানা হলো তেতুলিয়া, যা পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত। এটি দেশের সর্বউত্তরের থানা হিসেবে পরিচিত।
11.বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ কোনটি?
- A.সেন্টমার্টিন
- B.ভোলা
- C.হাতিয়া
- D.সন্দ্বীপ
Correct Answer & Explanation
ভোলা. ভোলা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দ্বীপ, যা মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত এবং আয়তনে দেশের অন্যান্য দ্বীপের চেয়ে বড়।
12.সুন্দরবনে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণকারী নদী কোনটি?
- A.পদ্মা নদী
- B.হাড়িয়াভাঙ্গা নদী
- C.মেঘনা নদী
- D.করতোয়া নদী
Correct Answer & Explanation
হাড়িয়াভাঙ্গা নদী. সুন্দরবনের সাতক্ষীরা জেলায় অবস্থিত হাড়িয়াভাঙ্গা নদী বাংলাদেশ ও ভারতের সীমানা নির্ধারণকারী নদী হিসেবে পরিচিত।
13.বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলের আয়তন কত?
- A.১ লক্ষ ১০ হাজার বর্গ কি.মি.
- B.১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কি.মি.
- C.১ লক্ষ ২০ হাজার বর্গ কি.মি.
- D.১ লক্ষ ২৫ হাজার বর্গ কি.মি.
Correct Answer & Explanation
১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কি.মি.. বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলের মোট আয়তন ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার, যা দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমুদ্রসীমার অন্তর্ভুক্ত।
14.বাংলাদেশের সাথে ভারতের জলসীমা কত কিলোমিটার?
- A.১২০ কি.মি.
- B.১৫০ কি.মি.
- C.১৮০ কি.মি.
- D.২০০ কি.মি.
Correct Answer & Explanation
১৮০ কি.মি.. বাংলাদেশের সাথে ভারতের স্থলসীমা ছাড়াও জলসীমা রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য ১৮০ কিলোমিটার। এটি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদী ও জলাশয়গুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে।
15.১৯৪৭ সালের সীমানা কমিশন কী নামে পরিচিত?
- A.ম্যাকমোহন কমিশন
- B.র্যাডক্লিফ কমিশন
- C.সাইমন কমিশন
- D.ক্রিপস কমিশন
Correct Answer & Explanation
র্যাডক্লিফ কমিশন. ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিভক্তির সময় সীমানা নির্ধারণের জন্য গঠিত কমিশনের নাম ছিল র্যাডক্লিফ কমিশন, যার প্রধান ছিলেন স্যার সিরিল র্যাডক্লিফ। এটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণ করে।
